শীতের সুস্থতায় চিনাবাদাম ও গুড় কেন এত উপকারী?
শীতকালে আমাদের শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আরামদায়ক ও শক্তিদায়ক খাবারের দিকে ঝোঁকে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে উষ্ণ রাখা এবং প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতের এমনই এক উপকারী ও জনপ্রিয় খাবার হলো চিনাবাদাম ও গুড়ের মিশ্রণ।
এই খাবারগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করে, যা ঠান্ডার দিনে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও উষ্ণতার একটি প্রাকৃতিক পাওয়ার হাউসে পরিণত করে। কিন্তু শীতের সুস্থতার জন্য এই মিশ্রণটি এত বিশেষ কেন? উপকারিতাই বা কী? আসুন, জেনে নিই—
১. হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক
গুড় হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে শীতকালে যখন হজমের সমস্যা বেশি দেখা দেয়, তখন গুড় কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফাইবারসমৃদ্ধ চিনাবাদামের সঙ্গে মিলে এই মিশ্রণটি অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য রক্ষা করে। এ ছাড়া প্রোটিনের সঙ্গে গুড় হজম সহজ করে, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমায় এবং অন্ত্রের জন্য হালকা কিন্তু কার্যকর উপশম দেয়।
২. প্রাকৃতিক শক্তি বৃদ্ধিকারী
চিনাবাদাম প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে গুড় সরবরাহ করে অরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও আয়রন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মিশ্রণটি পরিশোধিত চিনিযুক্ত খাবারের তুলনায় ক্লান্তির ঝুঁকি কমায়। শীতের তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও এটি শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।
৩. অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা ও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী
গুড়কে একটি উষ্ণ প্রকৃতির খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অপরদিকে চিনাবাদামে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গুড় পরিশোধিত চিনির একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এই দুটি একসঙ্গে খেলে শরীরের প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।
0 Response to "শীতের সুস্থতায় চিনাবাদাম ও গুড় কেন এত উপকারী?"
Post a Comment