![]() |
প্রতীকী ছবি |
বার্তা বিট লাইফস্টাইল:
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে তৃপ্তিভরে খাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খাওয়ার পরপরই অনেক সময় শরীরে অদ্ভুত এক ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব ভর করে। মূলত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত ও ভারী খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ায় শরীরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে এই ক্লান্তি অনুভূত হয়।
কিছু নিয়ম মেনে চললে ইফতারের পরেও আপনি থাকতে পারেন একদম সতেজ ও প্রাণবন্ত। চলুন জেনে নিই উপায়গুলো-
১. ধীরে ও পরিমিত খাবার গ্রহণ
ক্ষুধা থাকলেও সব খাবার একবারে না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। একসঙ্গে অনেক খাবার খেলে হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।
২. সুষম ও হালকা খাবার
খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন। মেন্যুতে ফলমূল, ছোলা, ডিম, সবজি বা হালকা স্যুপ রাখুন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, তেলচর্বি বা বেশি মশলাযুক্ত খাবার হজমে সময় নেয় এবং ক্লান্তি বাড়ায়; তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
৩. সঠিক পদ্ধতিতে পানিশূন্যতা দূর করুন
সারাদিনের পানিশূন্যতা দূর করতে ইফতারের পর প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা ফলের শরবত পান করুন। মনে রাখবেন, কেবল পানি খেলে হয় না, ডুবোতেলে ভাজা খাবার কমিয়ে পানিযুক্ত ফল খেলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়।
আরো পড়ুন: রমজানের চাঁদ দেখলে যে দোয়া পড়তেন নবীজি (সা.)
৪. অতিরিক্ত মিষ্টি বর্জন
মিষ্টি খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়ে আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। মিষ্টির বদলে প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ফল বা খেজুর বেছে নিন।
৫. এক কাপ হালকা চা বা কফি
ইফতারের পর ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করতে পারেন। এতে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে ভেতর থেকে সতেজ রাখবে। তবে খেয়াল রাখবেন চা যেন খুব কড়া না হয় এবং এক কাপের বেশি না হয়।
৬. নামাজের বিরতি নিন
ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিন। এতে নামাজের মাধ্যমে শরীর সামান্য সচল হয় এবং পাকস্থলীও বাকি খাবার হজমের জন্য তৈরি হওয়ার সময় পায়।
৭. সামান্য হাঁটাহাঁটি করুন
ইফতারের পরপরই শুয়ে বা বসে থাকবেন না। হালকা চলাফেরা বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।

0 coment rios: